২৯ নভেম্বর শুক্রবার বিবিসির অনলাইন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন করে হুশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে ব্যাপকভাবে হামলার পর।
রাশিয়ার নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ওরেশনিকের মাধ্যমে, তিনি হামলার হুমকি দিয়েছেন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে নীতিনির্ধারণের সঙ্গে জড়িত কেন্দ্রগুলোতে ।
বৃহস্পতিবার ২৮ নভেম্বর, রাশিয়ান বাহিনী রাতভর তুমুল হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনা। পরবর্তীতে এর কয়েক ঘণ্টা পরেই রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন নতুন করে হুঁশিয়ার বার্তা দেন।
তিনি জানিয়েছেন, এই আক্রমণ রুশ ভূখণ্ডে (এটিএসিএমএস) মার্কিন সরবরাহকৃত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার জবাব ।
অন্যদিকে ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, কড়া জবাব দেওয়া হবে এই ব্লাকমেইলের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে ।
গত সপ্তাহে, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে রুশ ভূখণ্ডে প্রথমবারের মতো ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে। গতকাল রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনে রাতভর হামলা চালিয়েছে এই হামলার জবাব দিতেই ।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত ১০ লাখ মানুষ হামলার কারণে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে ইউক্রেনের। তবে হামলায় কোনো হতাহতের খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে পুতিন জানিয়েছেন, এই হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে ১০০টি ড্রোন ও ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র। ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রও এর মধ্যে ছিল।
পুতিন গত সপ্তাহে এই ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে জানিয়েছেন, ম্যাক ১০ (শব্দের গতির দশ গুণ) ক্ষেপণাস্ত্রটি অর্থাৎ আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড গতিতে চলে এটি। এই অস্ত্রটি বর্তমানে কোনো উপায় নেই প্রতিহত করার ।
এ ছাড়া ইলিয়া ক্রামনিক রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ বলেন, সম্ভবত ওরেশনিক নতুন প্রজন্ম মধ্যম-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের। ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ কিলোমিটার এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা (১,৫৫০-১,৮৬০ মাইল)। এবং প্রসারিত হতে পারে সম্ভবত (৩,১০০ মাইল) ৫,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত অর্থাৎ এটি আঘাত হানতে সক্ষম সর্বোচ্চ ৫,০০০ কিলোমিটারের দূরের লক্ষ্যবস্তুতে ।